বাংলা সাহিত্য ও প্রকাশনায় ইউনিকোডের সম্ভাবনা

বাংলা সাহিত্য ও প্রকাশনায় ইউনিকোডের সম্ভাবনা

শুরুর কথা

সে একটা সময় ছিল, যখন ইন্টারনেটে আমার জন্য অন্যতম আকর্ষণ ছিল তিনটে ওয়েবসাইট – ইয়াহু মেল, কবিতা ডট ডব্লু এস আর অযান্ত্রিক।
প্রথম সাইটের আকর্ষণ সম্পর্কে আর কোথাও বিস্তারিত বলা যাবে। দ্বিতীয় সাইটের কথা অনেকেই জানেন। এটি মূলত একটি অনলাইন ফোরাম (মুক্তমঞ্চ নামেই বেশি পরিচিত), যেখানে কবিতা পোস্ট করা যায়। আমার মতো আরও অনেকে এখানে কবিতা লেখা অভ্যাস করতেন। যারা মনে করেন পিঠ চাপড়ানির ফলে কবিতার মান উত্তরোত্তর ভালো হয়, তাঁদের জন্যেই মূলত এই সাইট। আমি বহু কবিবন্ধুর থেকে শুনেছি এই সাইটটি কীভাবে তাঁদের লেখার অভ্যাস এবং কবিতার মানোন্নয়নে সাহায্য করেছে। আমি নিজেও নানা কারণে মুক্তমঞ্চের কাছে কৃতজ্ঞ। ২০০২-এ এই সাইটটির সঙ্গে আমার পরিচয়। সেই সময় আমরা রোমান বাংলায় (সহজ কথায় যাকে বাংরেজি বলা হয়) কবিতা পোস্ট করতাম। আরও দুয়েক বছর পরে কেউ কেউ iLeap বা বাংলাওয়ার্ড বা অন্য কোনও সফটওয়্যারে বাংলায় কবিতা টাইপ করে, সেগুলো মাইক্রোসফট পেন্ট বা ফোটোশপে ইমেজ বানিয়ে পোস্ট করতেন।
এবার আসি তৃতীয় সাইটটির কথায়। অযান্ত্রিক আইআইটি খড়্গপুরের ছাত্রদের সম্পাদিত একটি ওয়েবম্যাগ। বাংলা ওয়েবম্যাগের শিশুকালে যে কয়েকটি ওয়েবম্যাগ ছিল, তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ছিল এই ওয়েবম্যাগটি। এঁরা বাংলায় লেখা টাইপ করে (সম্ভবত iLeap-এ), সেটার ইমেজ বানিয়ে ওয়েবসাইটে দিতেন। সেই আমলে যে কটি হাতেগোনা ওয়েবম্যাগ ছিল, তার মধ্যে সবথেকে চমকপ্রদ (লেখার মান এবং সাইট ডিজাইনে) ছিল অযান্ত্রিক। বলতে বাধা নেই, অযান্ত্রিক থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই আমি ২০০৩-এর মার্চে সৃষ্টি নামের ওয়েবম্যাগটি শুরু করেছিলাম।

শুরুতেই মুক্তমঞ্চ এবং অযান্ত্রিকের কথা বললাম একটাই কারণে। সাইটগুলো সেই সময় ব্যবহারে সহজ ছিল, যাকে বলা হয় user friendly। বাংলা কবিতাচর্চার মেহফিল বা তরুণ লেখকের স্বপ্নপূরণের সাইট দুটি প্রযুক্তিগতভাবে সেই সময়ের নিরিখেও হয়তো পিছিয়ে ছিল। কারণ ইমেজ-এ লেখা না দিয়ে শুধুমাত্র বাংলা টেক্সট ব্যবহার করত (এবং এখনও করে) দুটি বিখ্যাত ওয়েবসাইট – পরবাস এবং বাংলালাইভ। পরের দিকে এই তালিকায় যুক্ত হয়ে সুলেখা পত্রিকা। আর ছিল বাংলা ওয়েবসাহিত্যের অন্যতম গৌরব এবং সম্ভবত প্রথম আর্কাইভ – বইপাড়া। এছাড়াও আজকাল, বর্তমান, আনন্দবাজার-এর মতো সংবাদপত্রের সাইটগুলিও টেক্সট ব্যবহার করত। এই সাইটগুলোতে কেন টেক্সট ব্যবহার করা হত সেটা নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা করলে সম্ভাব্য কারণ হিসাবে এগুলো পাই।
১। টেক্সট ফর্মাট-এ লেখা দিলে ওয়েবসাইটের লে-আউট অনুসারে লেখা নিজে নিজেই সজ্জিত হয়ে যায়। ইমেজ ফর্মাটে লেখা দিলে সেই সুবিধা অনেক ক্ষেত্রেই কম।
২। প্রথমবার টাইপ করে সেই লেখাকে ইমেজ ফর্মাটে বানানো একটা পরিশ্রমের কাজ। বিশেষ করে সেটা যদি সংবাদপত্র হয়।
৩। ইমেজ একবার বানিয়ে ফেললে কোনও লেখায় সংশোধন করা সহজ নয়।
৪। তৎকালীন শ্লথ ইন্টারনেটের কারণে ভারী ইমেজ ফাইল ব্রাউজারে ডাউনলোড করা সমস্যা ছিল। একইভাবে ইমেজ ফাইলের কারণে সার্ভার স্পেস এবং সেই সম্পর্কিত খরচও একটা কারণ হতে পারে।
৫। “আমরা বাকিদের মতো লেখা ছবি করে সাইট বানাই না। আমরা অন্যরকম।”

বলাই বাহুল্য, এখানে যে টেক্সট-এর কথা বলছি, সেটা কিন্তু ইউনিকোড নয়। মূলত ‘এমবেডেড ফন্ট’ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এই ওয়েবসাইটটিগুলি টেক্সট-এ লেখা প্রকাশ করত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল মূলত দুটো।
১। সাইটগুলি সমস্ত অপারেটিং সিস্টেম এবং সমস্ত ব্রাউজারে ভালোভাবে দেখা যেত না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টেক্সটগুলো জগাখিচুড়ি দেখাত।
২। সাইটে ব্যবহৃত ফন্টগুলো অনেক সময়ই ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হত। এক্ষেত্রে কম্পিউটারে এ্যাডমিন রাইটস্‌ না থাকলে কিছুই পড়া যেত না। মনে রাখতে হবে, যে সময়ের কথা বলছি, তখনও ঘরে ঘরে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ঢুকে পড়েনি। আমার মতো বাঙালি ছাত্রদের ভরসা ছিল কলেজ বা স্কুলের কম্পিউটার সেন্টার, যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের যা খুশি করার অনুমতি ছিল না।
এ দুটি সমস্যা ছাড়াও আর একটি সমস্যা ছিল – গুগল বা কোনও সার্চ ইঞ্জিন এই সাইটগুলির কনটেন্ট পড়তে পারত না। ফলে কোনওভাবেই সার্চ রেজাল্টে উঠে আসত না এই সাইটে প্রকাশিত লেখাপত্র। একই সমস্যা ছিল ইমেজ আকারে প্রকাশিত লেখার ক্ষেত্রেও। তবু যে কোনও অপারেটিং সিস্টেম-এ এবং যে কোনও ব্রাউজারে পড়া যায় – এই মোক্ষম যুক্তিটি দিয়ে সৃষ্টি, কৌরব, স্বাপ্নিক, অযান্ত্রিক, সোনাঝুরি এইসব পত্রিকাগুলি ইমেজ-এর মাধ্যমেই লেখা প্রকাশ করে পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল।

এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলা ইউনিকোড অঙ্কুরিত হচ্ছিল। ২০০৫-এর মাঝামাঝি আস্তে আস্তে শোনা যাচ্ছিল ইউনিকোডে বাংলা লেখার সফটওয়্যার অভ্র কিবোর্ডের নাম। আমরা যারা বাংলাওয়ার্ড ব্যবহার করতাম, তারা প্রথমে স্বাভাবিক আড়ষ্টতায় প্রত্যাখ্যান করতে চাইলাম বাংলা ইউনিকোডের সম্ভাবনা। ‘সমস্ত অপারেটিং সিস্টেমের জন্যে, সমস্ত ব্রাউজারের জন্যে’ – ইউনিকোডের এই সুবিধা বাংলা ইউনিকোডের জন্যে তখনও অবশ্য সেভাবে ডানা মেলেনি। তাছাড়া সেই সময় অভ্র ব্যবহার করতে গেলে সফটওয়্যার ইনস্টল করা ছাড়াও মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ফোল্ডারের মধ্যে গিয়েও সামান্য কিছু পরিবর্তন করতে হত। আমরা যারা ততদিনে কলেজের কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কিনে ফেলেছি, তারাও প্রোগ্রাম ফোল্ডারে গিয়ে এমন সব পরিবর্তন করতে ভয় পেতাম।
কিন্তু সাহস করেই একটা পত্রিকা বাংলা ইউনিকোড ব্যবহার করে ফেলল সেই সময়। আমার দেখা প্রথম বাংলা ইউনিকোড ওয়েবম্যাগ – গেরোর খাতা; সম্ভবত ২০০৫-এর শেষের দিকে। এরপরই বইপাড়া ডট কম-ও নিজেদের বদলে ফেলতে সচেষ্ট হল ইউনিকোডের সুবিধা নিয়ে।

ইউনিকোডের সুবিধা কী?
১। যে কোনও অপারেটিং সিস্টেমে, যে কোনও ব্রাউজারে, যে কোনও ডিভাইসে বাংলা ইউনিকোড পড়া যেতে পারে।
২। গুগলসহ সমস্ত সার্চ ইঞ্জিনই ইউনিকোডে লেখা কনটেন্ট পড়তে পারে। ফলে বাংলা ইউনিকোডে গড়ে ওঠা সাইটের লেখাগুলি সহজেই বিভিন্ন সার্চের রেজাল্টে খুঁজে পাওয়া যায়।
এছাড়া ইমেজ আকারে লেখা পোস্ট করা সাইটগুলোর তুলনায় টেক্সটে তৈরি হওয়া সাইটগুলোর যে সুবিধাগুলো ছিল। সেগুলো ইউনিকোডে তৈরি সাইটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

বলাই বাহুল্য, এইভাবে ধরে ধরে বাঙালিকে (পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকে) ইউনিকোডের সুবিধা বোঝানোর মত লোকজন বেশি ছিলেন না। আমরা বরাবরই যুক্তি এবং তথ্যের থেকে নিজেদের পুষে রাখা কিছু মতকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। তাই ক্রমাগত মাথা নাড়তে থাকার ফলে বাংলা ইউনিকোডের মাহাত্ম্য প্রচারে এগিয়ে আসা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কণ্ঠস্বর আমাদের কানে ঢুকলই না।

বাংলা ওয়েবম্যাগের বর্তমান

প্রথমে ইউনিকোডের গুরুত্ব না বুঝলেও আস্তে আস্তে বাংলা ওয়েবম্যাগগুলো ইউনিকোডে প্রকাশিত হতে আরম্ভ হল মূলত ৩টি কারণে।

১। বাংলা ওয়ার্ড বা বর্ণসফট, বাংলা লেখার যে সফটওয়্যারগুলো বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যেত, সেগুলোর সাহায্যে বাংলা টেক্সট টাইপ করে মাইক্রোসফট ইমেজ, ফটোশপ বা কোরেলে ছবি বানিয়ে লেখা পোস্ট করা হত। কিন্তু উইন্ডোজ এক্স পি-র পরের ভার্সানগুলোতে এই সফটওয়্যারগুলো ঠিকঠাক কাজ করা বন্ধ করে দিল। বর্ণসফট-এর তুলনায় বাংলাওয়ার্ড সফটওয়্যারটি দারুণ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু বাংলা ইউনিকোড সাপোর্ট না করার কারণে সম্ভবত সফটওয়্যারটির নির্মাতারাও বুঝেছিলেন এই সফটওয়্যার-এর কোনও ভবিষ্যত নেই। তাই উইন্ডোজ-এর নতুন ভার্সানের জন্যে উপযুক্ত করে তাঁরা আর সফটওয়্যারটিকে আপগ্রেড করলেন না বা কোনও প্যাচও দিলেন না। ফলে বাংলাওয়ার্ড বা বর্ণসফট-এর সাহায্যে ওয়েবম্যাগ তৈরি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ল।
২। ২০০৩-এ অভ্র কি বোর্ড হাজির হলেও বাংলাওয়ার্ড-এর সমস্যার কারণে এপার বাংলার ইন্টারনেট সাহিত্যিকরা ২০০৬-এর গোড়া থেকেই মোটামুটি অভ্র কিবোর্ড ব্যবহার করা শুরু করলেন। বিনামূল্যে ইউনিকোড লেখার এমন এক হাতিয়ারে ইন্টারনেটে বাংলা লেখালেখির চেহারাটাই বদলে দিল। লেখক এবং সম্পাদকদের মধ্যে নির্ঝঞ্ঝাট বাংলা লেখার এই সফটওয়্যার জনপ্রিয় হয়ে উঠল অচিরেই। সেই সময় অর্কুটের বিভিন্ন কমিউনিটিতে ইউনিকোডের এই ব্যবহার আশা করি পাঠক ভোলেননি।
৩। ওয়েবম্যাগ সহজেই তৈরি করার জন্যে ব্লগস্পটের ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে শুরু করলেন কেউ কেউ। ব্লগ ইঞ্জিন ব্যবহার করে তৈরি বলে সেইসব পত্রিকার নাম হল ব্লগজিন। বাক পত্রিকা এই ব্লগজিনগুলোর মধ্যে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। যদিও বাক পত্রিকা কিছুদিন আগে পর্যন্তও ইমেজ ফাইলেই লেখা পোস্ট করত এবং এখনও কিছু কিছু ব্লগজিন ইমেজই ব্যবহার করে। কিন্তু যেহেতু ব্লগস্পটে বিনামূল্যে রেজিস্টার করা যায় এবং ব্লগ ইঞ্জিনে ইউনিকোডের ব্যবহার সহজ, তাই ব্লগজিনে ইউনিকোড ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।
বর্তমানে যে সব বাংলা পত্রিকা ওয়েবে নিয়মিত প্রকাশ পায়, তাদের মধ্যে কিশোর পত্রিকা ‘জয়ঢাক’, বাংলা কবিতার প্রথম ওয়েবম্যাগ ‘কৌরব’ এবং কালিমাটি-ই বোধহয় ইউনিকোড ব্যবহার করে না।

বর্তমানে প্রকাশিত ওয়েবম্যাগগুলোকে প্রযুক্তিগতভাবে কয়েকটা ভাগে ভাগ করা যায়।
১। সাধারণ ওয়েবসাইট – Html, Aspx বা Php-MySql দিয়ে তৈরি সাধারণ ওয়েবসাইটকে ওয়েবম্যাগ আকারে প্রকাশ করা হয়। যেমন কৌরব, পরবাস, বাংলালাইভ ইত্যাদি।
২। ব্লগজিন – ব্লগস্পট-এর ব্লগিং ইঞ্জিন ব্যবহার করে তৈরি ওয়েবম্যাগ। যেমন বাক, অন্য নিষাদ, কালিমাটি ইত্যাদি। এই পদ্ধতিতে ওয়েবম্যাগ তৈরির ব্যাপারে শ্রী সুমিত রঞ্জন দাস-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু ব্লগস্পটে তৈরি ওয়েবম্যাগের মূল সমস্যা পুরানো সংখ্যাগুলিকে আর্কাইভে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায় না। বর্তমান সংখ্যার সূচিপত্রও অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট বোঝা যায় না।
৩। ওয়ার্ডপ্রেস – ব্লগস্পট থেকে যদি ওয়েবম্যাগ প্রকাশ করা যায়, তাহলে ওয়ার্ডপ্রেসে নয় কেন? ওয়ার্ডপ্রেসের কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে এবং কয়েকটা প্লাগ-ইনের সাহায্যে সহজেই একটা ওয়ার্ডপ্রেস সাইটকে ওয়েবম্যাগে রূপান্তরিত করা যায়। এইভাবে তৈরি সাইটে পুরানো সংখ্যার আর্কাইভ বা নতুন সংখ্যার সূচিপত্র সহজেই দেখানো যায়। যদিও ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি ওয়েবম্যাগের মূল সমস্যা তার পিছনে ব্যয় হওয়া সময়। কবিয়াল পত্রিকার ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস প্ল্যাটফর্মে গড়ে তুলতে আমার প্রায় পঞ্চাশ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এছাড়াও বিভিন্ন প্লাগইন ব্যবহারের কারণে ওয়েবম্যাগের সংখ্যাগুলো মেনটেন করাও খুব সহজ নয়।

যে কোনও ওয়েবম্যাগ শুরুর সময় মাথায় রাখা উচিত তার আপডেট এবং মেনটেনেন্স কতটা সহজে করা যায়। ব্লগস্পটে এই ব্যাপারটা সহজেই হয়, কিন্তু সে ক্ষেত্রে আর্কাইভ এবং সূচিপত্র সহজে বোঝা যায় না। ওয়ার্ডপ্রেসের সমস্যাও উল্লেখ করেছি। একমাত্র সাধারণ ওয়েবসাইটেই পত্রিকার রূপটি ইচ্ছামত ফুটিয়ে তোলা যায়। কিন্তু সেটার আপডেট এবং মেনটেনেন্স ব্লগস্পট বা ওয়ার্ডপ্রেসের মত অত সহজ নয়। উপরন্তু সাধারণ ওয়েবসাইট গড়ে তুলতে যে প্রযুক্তিগত কাঠামো এবং জানকারির দরকার, তা পত্রিকা সম্পাদকের নাগালে থাকে না অধিকাংশ সময়ই।
আদর্শ পরিস্থিতি কল্পনা করলে একটা ওয়েবম্যাগ এরকম হওয়া উচিত।
১। সেটির গড়ন হবে পত্রিকার মত – বর্তমান সংখ্যা, আর্কাইভ, যোগাযোগের পাতা সম্বলিত।
২। পত্রিকাটির নতুন সংখ্যার সূচিপত্র (অর্থাৎ বিভিন্ন লেখা) এবং পুরানো সংখ্যাগুলির লেখা সহজেই গুছিয়ে রাখা যাবে।
মূলত এই দুটি শর্ত মাথায় রেখেই আমি সৃষ্টিসুখ CMS-এর কাজ শুরু করি। সাইটের লেখাগুলি একটি সহজ এ্যাডমিন এ্যাপ্লিকেশানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেখানে। একজন এ্যাডমিন ইউজার (পত্রিকার সম্পাদক বা কারিগরী সহায়ক) এ্যাডমিন প্যানেলে লগইন করে পত্রিকার নতুন সংখ্যা এবং নতুন বিভাগ (কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ ইত্যাদি) তৈরি করে বিভিন্ন লেখা পোস্ট করতে পারেন। লেখার শিরোনাম, লেখক, বিভাগ, সংখ্যা এবং মূল লেখাটি একটি সহজ ফর্মের মাধ্যমে পোস্ট করা যায়। পোস্ট করা লেখা পরে সুবিধা মত আপডেটও করা যায়।
সৃষ্টি, জয়ঢাক, আদরের নৌকা, জার্নি 90s, ঐহিক – এরকম প্রায় ১২টি ওয়েবম্যাগ এই মুহূর্তে সৃষ্টিসুখ CMS ব্যবহার করছে। এইসব পত্রিকার এ্যাডমিনদের মতামতসাপেক্ষে সৃষ্টিসুখ CMS ক্রমশ বদলে যাচ্ছে। আশা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে ওয়েবম্যাগ তৈরির একটি সহজ টুল হয়ে উঠবে এই কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটি।